পাবনা জেলার আমিনপুর থানাধীন ঐতিহ্যবাহী আহাম্মদপুর আহাম্মাদিয়া দাখিল মাদ্রাসা নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। আসবাবপত্র তৈরির অনিয়ম থেকে শুরু করে পাঠদানে গাফিলতি, শিক্ষক-কর্মচারীদের দায়িত্বহীনতা—সব মিলিয়ে মাদ্রাসাটির সুনাম নষ্ট হয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। অভিভাবকরাও তাদের সন্তানদের এ প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করাতে অনাগ্রহ প্রকাশ করছেন।
সম্প্রতি নবনির্মিত ভবনের আসবাবপত্র তৈরিতে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠে এসেছে। বিল ভাউচার অনুযায়ী ৩৬০টি বেঞ্চ, ৯টি টেবিল, ৯টি চেয়ার ও একটি আলমারী সরবরাহ করা হলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান রয়েল ফার্নিচার মেহগনি কাঠের পরিবর্তে নিম্নমানের কাঠ ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মাদ্রাসার সভাপতি মো. ইমরান হাসান মামুন জানান, “আসবাবপত্রে মেহগনি কাঠ ব্যবহার না করায় আমি পুনরায় তৈরির নির্দেশ দিয়েছি। এজন্য আসবাবপত্র বুঝে নেওয়া হয়নি।” তবে মাদ্রাসার সুপার দাবি করেন, আসবাবপত্র যথাযথভাবেই বুঝে পাওয়া হয়েছে। সুপারের এ বক্তব্যে বিরোধ দেখা দেয় এবং তার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।
শুধু আসবাবপত্র নয়, শিক্ষাদানেও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এনসিটিবি কর্তৃক নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা ১০ মিনিট পর্যন্ত পাঠদান হওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে সকাল ৯টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত মাত্র সাড়ে চার ঘণ্টা পাঠদান করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি রেজিস্টার ও প্রকৃত হাজিরার মধ্যে অসঙ্গতিও লক্ষ্য করা গেছে।
এছাড়া শিক্ষকরা পাঠদানের প্রতি অনাগ্রহী হয়ে পড়েছেন। শ্রেণিকক্ষে দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে তারা অধিকাংশ সময় ফোনে কিংবা চায়ের দোকানে সময় ব্যয় করেন বলে অভিযোগ করেছে শিক্ষার্থীরা।
ফলে শিক্ষার মান ভয়াবহভাবে নেমে গেছে। ২০২৫ সালের দাখিল পরীক্ষায় নিয়মিত ১৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ৩জন পাশ করেছে। এতে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদ্রাসার দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা অবিলম্বে বন্ধ করে প্রতিষ্ঠানটিকে রক্ষা করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।