আল্লাহ তায়ালা অন্যায়ভাবে হত্যাকারীদের সম্পর্কে বলেন,
ﻭَﻣَﻦْ ﻳَﻘْﺘُﻞْ ﻣُﺆْﻣِﻨًﺎ ﻣُﺘَﻌَﻤِّﺪًﺍ ﻓَﺠَﺰَﺍﺅُﻩُ ﺟَﻬَﻨَّﻢُ ﺧَﺎﻟِﺪًﺍ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻭَﻏَﻀِﺐَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﻟَﻌَﻨَﻪُ ﻭَﺃَﻋَﺪَّ ﻟَﻪُ ﻋَﺬَﺍﺑًﺎ ﻋَﻈِﻴﻤًﺎ
অনুবাদঃ এবং যে, কোন মুসলমানকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করলো,তার শাস্তি জাহান্নাম। যেখানে সে চিরস্থায়ী হবে। তার উপর আল্লাহর গযব এবং অভিশম্পাত এবং আল্লাহ তায়ালা তার জন্য মহা শাস্তির ব্যবস্থা করেছেন।
[সূরা নিসা,আয়াত-৯৩]
কে না জানে যে, ইয়াজিদ এবং তার সৈন্যরা যত নিরপরাধকে হত্যা করেছে,সেগুলো তো অন্যায়ভাবেই ছিল।
ইয়াজিদের সৈন্য অন্ধ হয়ে গেলোঃ
ইমাম জাওযীর দৌহিত্র বর্ণনা করেন যে, এক বৃদ্ধ হযরত হুসাইন রাঃ এর শাহাদাতের সাথে জড়িত ছিল। সে একদিন হঠাৎ অন্ধ হয়ে গেল। লোকজন এর কারণ জানতে চাইলে সে বলল, “আমি রাসূল সাঃ কে স্বপ্নে দেখলাম; তাঁর জামার আস্তিন গুটানো অবস্থায়,হাতের মধ্যে তলোয়ার এবং তাঁর সামনে চামড়ার একটি কার্পেট ছিল, যার উপর অপরাধীদের মৃত্যূদন্ড কার্যকর করা হয়। এর উপর ইমাম হুসাইন রাঃ হত্যাকারীদের মধ্য থেকে দশ জনের লাশ যবেহকৃত অবস্থায় পড়া ছিল। তারপর হুজুর সাঃ আমাকে ধমক দিলেন এবং ইমাম হুসাইন রাঃ রক্তের ফোটা আমার চোঁখে লাগিয়ে দিলেন।আমি সকাল বেলা উঠে দেখি আমি অন্ধ হয়ে গিয়েছি।
ইয়াজিদ সৈন্যের মুখ কুৎসিত হয়ে গেলোঃ
হযরত আল্লামা ইবনে জাওযী রহঃ অনুরুপ বর্ণনা করেন যে, যে ব্যক্তি হযরত হুসাইন রাঃ এর মাথা মোবারককে নিজের ঘোড়ার ঘাড়ের সাথে লটকিয়ে ছিল; তারপর তাকে এমন অবস্থায় দেখা গিয়েছিলো যে, তার মুখ আলকাতরার ন্যায় কুৎসিত হয়ে গেলো। লোকজন জিজ্ঞাসা করলো, তুমি সমগ্র আরবের মধ্যে অন্যতম সুদর্শন ব্যক্তি ছিলে তোমার এ অবস্থা কিভাবে হল ? সে বলল, “যেদিন হতে আমি ইমাম হুসাইনের মাথা মুবারক ঘোড়ার ঘাড়ের সাথে লটকিয়েছিলাম; সেদিনের পর কিছুক্ষণের জন্য ঘুমালাম। তখন(স্বপ্নে দেখলাম) দুইজন লোক আমার বাহু ধরে জ্বলন্ত এক অগ্নি কুন্ডের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। অতঃপর তাতে নিক্ষেপ করে, যা কিনা আমাকে ঝলসে দেয়। অতঃপর কিছুদিন পর সে এই অবস্থা নিয়েই মারা যায়।
ইয়াজিদ সৈন্য ছটফট করে মারা গেলোঃ
ঐতিহাসিকগণ লিখেন যে, যে লোক হযরত ইমাম হুসাইন রাঃ কে তীর নিক্ষেপ করেছিল এবং পানি পান করতে দেয় নাই। সে ব্যক্তির মধ্যে আল্লাহ তা’আলা এমন পিপাসার সঞ্চার করে দিলেন যে, কোনভাবেই তার পিপাসা নিবারণ হত না। পানি যতই না পান করুক সে, পিপাসায় ছটফট করতে থাকতো। এমতাবস্থায় মাত্রাতিরিক্ত পানি পানে তার পেট ফেটে গেল এবং সে অবশেষে মারা গেল।
আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা’আয়ালা ইয়াজিদদের কে দুনিয়াতেই শাস্তি দিয়েছেন। আখিরাতে তাদের শাস্তি মজুদ রয়েছে।
আমাদেরকে মনে রাখতে হবে আল্লাহ তাআলা ইয়াজিদদেরকে ইয়াজীদ প্রেমীদেরকে দুনিয়া এবং আখেরাতে কঠিন শাস্তি দিবেন। দুনিয়াতে তারা যে শাস্তি পেয়েছে সেগুলো তো বর্ণনা করা যায় আখিরাতে তাদের জন্য দেশ শাস্তিগুলো রয়েছে সেগুলো বর্ণনাতীত।
অতএব আসুন আমরা সবাই হাসান ও হুসাইন রাঃ প্রেমী হয়ে মৃত্যুবরণ করি ।
সৈয়দ নুরুজ্জামান হাশেমী
সহকারী সুপার
ভাটিকয়া দাখিল মাদ্রাসা
পাবনা, বাংলাদেশ।