আল্লাহ তায়ালা অন্যায়ভাবে হত্যাকারীদের সম্পর্কে বলেন,
ﻭَﻣَﻦْ ﻳَﻘْﺘُﻞْ ﻣُﺆْﻣِﻨًﺎ ﻣُﺘَﻌَﻤِّﺪًﺍ ﻓَﺠَﺰَﺍﺅُﻩُ ﺟَﻬَﻨَّﻢُ ﺧَﺎﻟِﺪًﺍ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻭَﻏَﻀِﺐَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﻟَﻌَﻨَﻪُ ﻭَﺃَﻋَﺪَّ ﻟَﻪُ ﻋَﺬَﺍﺑًﺎ ﻋَﻈِﻴﻤًﺎ
অনুবাদঃ এবং যে, কোন মুসলমানকে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করলো,তার শাস্তি জাহান্নাম। যেখানে সে চিরস্থায়ী হবে। তার উপর আল্লাহর গযব এবং অভিশম্পাত এবং আল্লাহ তায়ালা তার জন্য মহা শাস্তির ব্যবস্থা করেছেন।
[সূরা নিসা,আয়াত-৯৩]
কে না জানে যে, ইয়াজিদ এবং তার সৈন্যরা যত নিরপরাধকে হত্যা করেছে,সেগুলো তো অন্যায়ভাবেই ছিল।
ইয়াজিদ বাহিনীর নেতা ইয়াজিদের ভয়াবহ পরিণতিঃ
সকল ইতিহাসবিদগণ ঐক্যমত যে,হযরত ইমাম হুসাইন রাঃ শাহাহাদাতের পর ইয়াজিদের একটা দিনও শান্তি মিলেনি। সমগ্র ইসলামী জাহানে তখন শহীদদের রক্তের ডাক এবং ক্ষোভের সঞ্চার শুরু হয়ে যায়। (কারবালার পর) তার জীবন দুই বছর আট মাস,অপর বর্ণনায় তিন বছর আট মাস থেকে অধিক হয়নি। দুনিয়ার মধ্যেও তাকে আল্লাহ তা’আলা অপদস্থ করেছেন এবং সেই অপদস্থতার সাথেই সে ধবংস হয়ে গিয়েছিল। (বিস্তারিত জানতে পড়ুন “লা’নত বর্ ইয়াজিদ”)
কুফা নগরীতে মুখতার এর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা এবং হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিঃ
হযরত ইমাম হুসাইন রাঃ এর হত্যাকারীদের উপর আসমানী ও যমীনী বিভিন্ন বালা-মুসিবত নেমেছিল। শাহাদাতের পাঁচ বছর পর ৬৬ হিজরীতে মুখতার সাকাফী ইমামের হত্যাকারীদের থেকে প্রতিশোধ(কিসাস) নেওয়ার অঙ্গীকার নিল। সাধারণ মুসলমানরাও তার সাথী হল এবং কিছু দিনের মধ্যেই তার এমন শক্তি অর্জিত হল যে, কুফা এবং ইরাকের উপর তাঁর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা হল। অতঃপর সে সর্বসাধারণের মাঝে ঘোষণা করল যে, “ইমাম হুসাইন রাঃ এর হত্যাকারীরা ছাড়া সবাইকে নিরাপদ ঘোষণা করা হল।” অতঃপর ইমাম পাকের হত্যাকারীদের ধরপাকড় এবং তালাশের ব্যাপারে সে সর্বশক্তি ব্যয় করলো। তারপর এক এক জনকে সে পাকড়াও করে হত্যা করল। একদিনে দুইশো আটচল্লিশ(২৪৮) ব্যক্তিকে ইমাম হুসাইন রাঃ এর শাহাদাতে শরীক থাকার অপরাধে হত্যা করা হল।
আমর বিন হাজ্জাজ যুবাইদীঃ
এই ব্যক্তি গরমের মধ্যে পিপাসার্ত অবস্থায় পালিয়েছিল। পিপাসার দরুণ সে বেহুশ হয়ে পড়ে রইলো। অতঃপর সেই অবস্থায়ই তার শিরোচ্ছেদ করা হল।
আল্লাহ সুবহানাহুওয়া তা’আয়ালা ইয়াজিদদের কে দুনিয়াতেই শাস্তি দিয়েছেন। আখিরাতে তাদের শাস্তি মজুদ রয়েছে।
আমাদেরকে মনে রাখতে হবে আল্লাহ তাআলা ইয়াজিদদেরকে ইয়াজীদ প্রেমীদেরকে দুনিয়া এবং আখেরাতে কঠিন শাস্তি দিবেন। দুনিয়াতে তারা যত শাস্তি পেয়েছে সেগুলো তো বর্ণনা করা যায় আখিরাতে তাদের জন্য যে শাস্তিগুলো রয়েছে সেগুলো বর্ণনাতীত।
অতএব আসুন আমরা সবাই হাসান ও হুসাইন রাঃ প্রেমী হয়ে মৃত্যুবরণ করি ।
সৈয়দ নুরুজ্জামান হাশেমী
সহকারী সুপার
ভাটিকয়া দাখিল মাদ্রাসা
পাবনা, বাংলাদেশ।